Friday, September 30, 2016

আফ্রিকান নরপশুদের গুলিতে বাংলাদেশের একজন নিহত


ইকবাল । মুন্সিগঞ্জ সদর থানার রতনপুর গ্রামে তার জন্ম। তিনি প্রায় ৫-৬ বছর যাবৎ আফ্রিকায় অবস্থানরত ছিলেন।সেখানে খুব ভালোভাবে চলছিল তার দিনগুলো। হঠাৎ ২৯শে সেপ্টেম্বর বর্বর আফ্রিকানদের গুলিতে তার ছোট্ট জীবনের অবসান ঘটে। ব্যাবসার কাজে সকালে তিনি ঘর ছেড়ে আসেন। আর ফেরা হয়নি তার ঘরে। আফ্রিকান ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। ছিনতাইয়ের পরে তাকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তার হত্যার খবর গ্রামে ছড়ানোর পর চারিপাশে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে চারিপাশ। মূলত তিনি ছিলেন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির একজন মানুষ। এলাকায় তার বেশ সুনাম রয়েছে। তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যু গ্রামের প্রতিটা মানুষের হৃদয়কে কাঁদিয়ে তুলেছে। মানতে পারছেনা তারা আজও। আর কতকাল আমাদের প্রাণ নিয়ে তারা খেলবে? আর কতকাল আমরা সাধারণ বাঙ্গালিরা প্রান দিবো? আর কত রক্ত চায় তারা? কেন কোন বিচার নেই সে দেশে? কেন এতো অনিশ্চয়তায় ভুগতে হবে তাদের? কেন ইকবালের মত মানুষদের জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে? আমরা বাঙ্গালি বলে কী বিশ্ব দরবারে আমাদের বিচারের স্থান হবে না ? আমরা সাধারণ মানুষ এই নির্মম হত্যার বিচার চাই।

Sunday, September 25, 2016

বাংলাদেশে এবং আফগানিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ

আজ থেকে শুরু হল বাংলাদেশে এবং আফগানিস্তানের প্রথম ম্যাচ।  ম্যাচ শুরু হয় বাংলাদেশ সময় ২:৩০ মিনিটে।  বাংলাদেশে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেয়ার সিন্ধান্ত নেয়।  শুরুটা ধস দিয়ে শুরু হয়। ১ রানের বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন হয়। সৈম্য সরকার ৩ বল খেলে ০ রান করে ড্রেসিংরুমে ফেরে।  শুরুটা ধস দিয়ে হলেও বাংলাদেশ এখন শক্ত অবস্থানেনে আছে।  ১৬ অভার শেষে সংগ্রহ ৭৮ রান এক উইকেটের বিনিময়ে।
পিচে আছেন তামিম ইকবাল ৪০* (৪৯) বলে আর ইমরুক কায়েস ৩৫* (৪৮) বল খেলে।

Saturday, September 24, 2016

ভাঙন থেকে সম্পর্কটাকে বাঁচাতে...

ভালোবাসা খোঁজার কাজে খুব সহজেই হয়ত সফলতা মেলে। কিন্তু একে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টা বেশ জটিল হয়ে ওঠে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স জানায়, ব্রিটেনে সম্পর্ক নিয়ে অসুখী হয়ে ওঠার হার বাড়ছে যুগলদের মধ্যে। ২০০৯ সালে যে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছিল তার চেয়ে বর্তমানে সম্পর্কে জটিলতা অনেক বেশি।

যদি সঙ্গী হয়রানিমূলক আচরণ করেন, তবে তাকে যত দ্রুত সম্ভব ত্যাগ করা ভালো। কিন্তু যারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু কৌশল অবলম্বনের কথা বলেন। এতে জটিলতা অনেক সহজে কমে আসবে। এতে খাদের কিনারা থেকে নিরাপদে আনতে পারবেন দুজনের মধ্যকার ভালোবাসা।

সিনেমা দেখুন : আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব রোচেস্টারের গবেষকরা ১৭৪ জন জুটির ওপর গবেষণা চালায়। গবেষণায় বলা হয়, সম্পর্ক বিষয়ে প্রতিমাসে ৫টি সিনেমা একসঙ্গে দেখলে বিচ্ছেদের হার অনেক কমে আসে। এসব ছবির মাধ্যমে মানুষ সম্পর্কে তার সঙ্গী-সঙ্গিনীর মানসিকতা ও চাহিদা সম্পর্কে বুঝতে পারে।

ইমোজির ব্যবহার : কে জানে যে একটি ভালোবাসা বা চুমুর ইমো সম্পর্কটাকে বাঁচিয়ে দিতে পারে? অতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ইমোজির ব্যবহার আন্তরিক যোগাযোগ সৃষ্টি করে বলে জানায় ব্যানগোর ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। ছোট ছোট ওই হলুদ চেহারাগুলো আবেগ প্রকাশের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। এর মাধ্যমে ভালোবাসার মানুষের প্রতি মনের ভাব স্পষ্ট প্রকাশ করা যায়।

পাশে থাকুন : ব্যক্তিগত বিষয়কে সম্পর্কের মাঝে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন সে বিষয়কে সাইকিয়াট্রিতে 'ফার্মিং' বলা হয়। চোখে চোখ রেখে কথা বলার মতো যোগাযোগ সৃষ্টি পুরুষদের ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে ওঠে। এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে স্রেফ তার পাশে বসে থাকুন। এভাবে কথা বল সময় কাটান। সম্পর্ক অনেক গভীর হতে থাকবে। অনেকেই সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে লজ্জবোধ করেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় আসে না। এ সমস্যা থেকে যেকোনো একজন মুক্তির পথ দেখাতে পারেন।

বিতর্ক বা অভিযোগ : সম্পর্কের তিন বছর পর ছোটখাটো বিষয় নিয়ে একেবারেই তর্কে না জড়ালে তা বিপদ সংকেত। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের মনোবিজ্ঞানী জন গটম্যান মনে করেন, তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হওয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কের একটি অংশ। তবে একে স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রাখতে হবে।

একযোগে ব্যায়াম : দুজনই ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। আর একসঙ্গে জিমনেশিয়ামে গিয়ে ব্যায়াম করুন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়, দুজন একসঙ্গে ব্যায়াম করলে দৈহিক অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি হয়। এভাবে টানা ৬ মাস ব্যায়াম করলে দুজনের প্রতি দুজনেরই টান বাড়ে।

তবে মনে রাখতে হবে, দুজনের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য থাকতে পারে। এ নিয়ে ভিন্ন পন্থায় উপকার মিলতে পারে। দুজনের মধ্যে আবেগপ্রসূত আলাপচারিতার চর্চা চালাতে হবে। তাহলেই ভাঙনের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে শূন্যের কোঠায় পৌঁছবে।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

তাসকিন-সানির বোলিং বৈধ

ড্রেসিংরুমের ভেতরের দিকে ছিলেন তিনি। বাইরে থেকে তামিম ইকবালের চিৎকার, ‘এই তাসকিন, বেরিয়ে আয়। সুখবর!’ যা বোঝার বুঝে যান তাসকিন আহমেদ। বেরিয়ে আসতে আসতেই জাতীয় দলের সতীর্থরা ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিনন্দন নিয়ে। ড্রেসিংরুমেই স্লোগানের মতো আওয়াজ ওঠে, ‘তাসকিন, তাসকিন।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের স্কোয়াডে নেই আরাফাত সানি। কাল বিকেলের ওই সময়টায় ঘুমিয়ে তিনি। ছোট বোন ডেকে তোলেন। সুখবর দেন ভাইকে। বুক থেকে যেন পাথর নেমে যায় তাঁর।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে পাষাণভার হয়ে ছিল তাসকিন-আরাফাতের অবৈধ অ্যাকশনের দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া। গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাঁদের অ্যাকশন। ধর্মশালায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলায় ম্যাচ অফিশিয়ালরা লাল কালিতে টুকে রাখে দুজনের নাম।

 চেন্নাইয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসেন তাঁরা। কিন্তু ১৯ মার্চ প্রকাশিত সে পরীক্ষার ফল পক্ষে যায়নি। আইসিসি নিষিদ্ধ করে দেয় তাসকিন-আরাফাতকে।

মাস ছয়েক পর চলতি মাসের ৮ তারিখ অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসেন তাঁরা। এরপর অবশ্য আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবাই। বিশেষত তাসকিনের ব্যাপারে। যে কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণার সময় এই ডানহাতি পেসারের জন্য একটি জায়গা পর্যন্ত খালি রাখা হয়। কাল বিকেলে অবশেষে আইসিসি থেকে আসে সুসংবাদ। পরীক্ষায় উতরে গেছেন তাসকিন; সঙ্গে বাঁ হাতি স্পিনার আরাফাতও। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ তকমা তাই উঠে গেল এই দুই বোলারের।

ওই শব্দটি নিয়ে ভীষণ বিব্রতকর অবস্থায় ছিলেন তাসকিন। কাল খুশির উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়ে জানান তা, ‘সবাই জানে, আমি নিষিদ্ধ বোলার। যেখানে যাই, সব বয়সের সবাই আমাকে প্রশ্ন করে। নিজেকে তখন অপরাধী মনে হতো। এখন আমার সঙ্গে আর নিষিদ্ধ শব্দ থাকছে না। তা ভীষণ আনন্দের।’ সে আনন্দের মাত্রা কতটা, বোঝাতে গিয়ে যোগ করেন, ‘কিছুদিন আগে ঈদ গেল। আমার কাছে এই নিষেধাজ্ঞার খবর উঠে যাওয়াটা মনে হচ্ছে আরেক ঈদের মতো।’

তাসকিনের নিষিদ্ধ হওয়াটা মোটেই মানতে পারেনি বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন বেঙ্গালুরুর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ভেঙে পড়ার কথা সহসা ভুলে যাওয়ার নয়। ভিনদেশি সাংবাদিকরা পর্যন্ত অবাক হয়ে যান, একজন সতীর্থের জন্য অধিনায়কের অতটা ভালোবাসা দেখে। সর্বশেষ ছয় মাস নিষিদ্ধ থাকার পুরো সময়ে সতীর্থদের অমন ভালোবাসা পেয়েছেন তাসকিন। কাল তাই শৃঙ্খলমুক্তির দিনে ধন্যবাদ দিলেন তাঁদেরসহ অনেককে, ‘মাশরাফি ভাই, সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই, তামিম ভাইসহ সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমার দুঃসময়ে তাঁরা পাশে ছিলেন। আমাকে সাহস জোগান। ধন্যবাদ বিসিবিকে। সব সময় পাশে থাকার জন্য। এ ছাড়া কোচ মাহবুব আলী জাকি ভাইকেও ধন্যবাদ।’ তাঁর ভালো লাগার আরেক জায়গার কথাও জানান তাসকিন, ‘আমি আর সানি ভাই দুজন যাই অস্ট্রেলিয়া। এখন দুজনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় আমি আরো বেশি খুশি।’

তাসকিনকে নিয়ে উদ্বেগ ছিল বেশি। বয়স কম, জাতীয় দলে আরো অনেক দিন খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে। ওই পেসারের বোলিং অ্যাকশনের শুদ্ধতা নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন সবাই, আরাফাতের ক্ষেত্রে তা নয়। তাঁর বোলিং অ্যাকশনও তো বৈধ ঘোষণা করল আইসিসি। আরাফাত তাই স্নায়ুর চাপ কাটিয়ে উত্ফুল্ল, ‘স্কুলে পরীক্ষা দেওয়ার পর তো তবু বুঝতে পারতাম পাস করব কি না। কিন্তু এখানে বোঝার উপায় ছিল না। একটু টেনশন তাই হচ্ছিল। আইসিসি অ্যাকশন বৈধ বলার খুব স্বস্তি পেয়েছি।’ কাল সন্ধ্যায় টেলিফোনে কথা যখন বলছিলেন, তখন জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলার জন্য তিনি বগুড়ার পথে। জাতীয় দলে ফেরার জন্য করণীয়গুলো নিজেই যেন নিজেকে মনে করিয়ে দেন এই বাঁ হাতি স্পিনার, ‘আগে আমাকে ঘরোয়া লিগে ভালো পারফর্ম করতে হবে। তা পারলে নির্বাচকরা নিশ্চয়ই আবার জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করবেন।’

কিন্তু অ্যাকশন বদলে যাওয়ার পর আগের কার্যকারিতা থাকবে কি না, এ নিয়ে কিছু সংশয়ও তো রয়েছে। যদিও আরাফাত সেটিকে বড় করে দেখতে নারাজ। বরং পূর্বসূরি এক বাঁ হাতি স্পিনারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন তিনি, ‘রাজ্জাক ভাইয়েরও বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলা হয়েছিল। উনি পরীক্ষা দিয়ে পাস করার পর আগের চেয়ে অনেক ভালো বোলিং করেছেন। আমার আগের অ্যাকশনে যেমন টার্ন ও বাউন্স তেমন পেতাম না। এবার শুধরে নেওয়ার পর তা পাব বলে আশা করছি। তাতে সব মিলিয়ে আমার কার্যকারিতা আগের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা।’

আইসিসি থেকে অ্যাকশনের শুদ্ধতার স্বীকৃতি পাওয়ার পর তাসিকন ও আরাফাতের চ্যালেঞ্জ সেটিই। আগের কার্যকারিতা যেন না কমে!

ড্রেসিংরুমের ভেতরের দিকে ছিলেন তিনি। বাইরে থেকে তামিম ইকবালের চিৎকার, ‘এই তাসকিন, বেরিয়ে আয়। সুখবর!’ যা বোঝার বুঝে যান তাসকিন আহমেদ। বেরিয়ে আসতে আসতেই জাতীয় দলের সতীর্থরা ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিনন্দন নিয়ে। ড্রেসিংরুমেই স্লোগানের মতো আওয়াজ ওঠে, ‘তাসকিন, তাসকিন।’
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের স্কোয়াডে নেই আরাফাত সানি। কাল বিকেলের ওই সময়টায় ঘুমিয়ে তিনি। ছোট বোন ডেকে তোলেন। সুখবর দেন ভাইকে। বুক থেকে যেন পাথর নেমে যায় তাঁর।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে পাষাণভার হয়ে ছিল তাসকিন-আরাফাতের অবৈধ অ্যাকশনের দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া। গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাঁদের অ্যাকশন। ধর্মশালায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলায় ম্যাচ অফিশিয়ালরা লাল কালিতে টুকে রাখে দুজনের নাম।
 চেন্নাইয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসেন তাঁরা। কিন্তু ১৯ মার্চ প্রকাশিত সে পরীক্ষার ফল পক্ষে যায়নি। আইসিসি নিষিদ্ধ করে দেয় তাসকিন-আরাফাতকে।
মাস ছয়েক পর চলতি মাসের ৮ তারিখ অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসেন তাঁরা। এরপর অবশ্য আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবাই। বিশেষত তাসকিনের ব্যাপারে। যে কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণার সময় এই ডানহাতি পেসারের জন্য একটি জায়গা পর্যন্ত খালি রাখা হয়। কাল বিকেলে অবশেষে আইসিসি থেকে আসে সুসংবাদ। পরীক্ষায় উতরে গেছেন তাসকিন; সঙ্গে বাঁ হাতি স্পিনার আরাফাতও। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ তকমা তাই উঠে গেল এই দুই বোলারের।
ওই শব্দটি নিয়ে ভীষণ বিব্রতকর অবস্থায় ছিলেন তাসকিন। কাল খুশির উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়ে জানান তা, ‘সবাই জানে, আমি নিষিদ্ধ বোলার। যেখানে যাই, সব বয়সের সবাই আমাকে প্রশ্ন করে। নিজেকে তখন অপরাধী মনে হতো। এখন আমার সঙ্গে আর নিষিদ্ধ শব্দ থাকছে না। তা ভীষণ আনন্দের।’ সে আনন্দের মাত্রা কতটা, বোঝাতে গিয়ে যোগ করেন, ‘কিছুদিন আগে ঈদ গেল। আমার কাছে এই নিষেধাজ্ঞার খবর উঠে যাওয়াটা মনে হচ্ছে আরেক ঈদের মতো।’
তাসকিনের নিষিদ্ধ হওয়াটা মোটেই মানতে পারেনি বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন বেঙ্গালুরুর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ভেঙে পড়ার কথা সহসা ভুলে যাওয়ার নয়। ভিনদেশি সাংবাদিকরা পর্যন্ত অবাক হয়ে যান, একজন সতীর্থের জন্য অধিনায়কের অতটা ভালোবাসা দেখে। সর্বশেষ ছয় মাস নিষিদ্ধ থাকার পুরো সময়ে সতীর্থদের অমন ভালোবাসা পেয়েছেন তাসকিন। কাল তাই শৃঙ্খলমুক্তির দিনে ধন্যবাদ দিলেন তাঁদেরসহ অনেককে, ‘মাশরাফি ভাই, সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই, তামিম ভাইসহ সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমার দুঃসময়ে তাঁরা পাশে ছিলেন। আমাকে সাহস জোগান। ধন্যবাদ বিসিবিকে। সব সময় পাশে থাকার জন্য। এ ছাড়া কোচ মাহবুব আলী জাকি ভাইকেও ধন্যবাদ।’ তাঁর ভালো লাগার আরেক জায়গার কথাও জানান তাসকিন, ‘আমি আর সানি ভাই দুজন যাই অস্ট্রেলিয়া। এখন দুজনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় আমি আরো বেশি খুশি।’
তাসকিনকে নিয়ে উদ্বেগ ছিল বেশি। বয়স কম, জাতীয় দলে আরো অনেক দিন খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে। ওই পেসারের বোলিং অ্যাকশনের শুদ্ধতা নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন সবাই, আরাফাতের ক্ষেত্রে তা নয়। তাঁর বোলিং অ্যাকশনও তো বৈধ ঘোষণা করল আইসিসি। আরাফাত তাই স্নায়ুর চাপ কাটিয়ে উত্ফুল্ল, ‘স্কুলে পরীক্ষা দেওয়ার পর তো তবু বুঝতে পারতাম পাস করব কি না। কিন্তু এখানে বোঝার উপায় ছিল না। একটু টেনশন তাই হচ্ছিল। আইসিসি অ্যাকশন বৈধ বলার খুব স্বস্তি পেয়েছি।’ কাল সন্ধ্যায় টেলিফোনে কথা যখন বলছিলেন, তখন জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলার জন্য তিনি বগুড়ার পথে। জাতীয় দলে ফেরার জন্য করণীয়গুলো নিজেই যেন নিজেকে মনে করিয়ে দেন এই বাঁ হাতি স্পিনার, ‘আগে আমাকে ঘরোয়া লিগে ভালো পারফর্ম করতে হবে। তা পারলে নির্বাচকরা নিশ্চয়ই আবার জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করবেন।’
কিন্তু অ্যাকশন বদলে যাওয়ার পর আগের কার্যকারিতা থাকবে কি না, এ নিয়ে কিছু সংশয়ও তো রয়েছে। যদিও আরাফাত সেটিকে বড় করে দেখতে নারাজ। বরং পূর্বসূরি এক বাঁ হাতি স্পিনারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন তিনি, ‘রাজ্জাক ভাইয়েরও বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলা হয়েছিল। উনি পরীক্ষা দিয়ে পাস করার পর আগের চেয়ে অনেক ভালো বোলিং করেছেন। আমার আগের অ্যাকশনে যেমন টার্ন ও বাউন্স তেমন পেতাম না। এবার শুধরে নেওয়ার পর তা পাব বলে আশা করছি। তাতে সব মিলিয়ে আমার কার্যকারিতা আগের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা।’
আইসিসি থেকে অ্যাকশনের শুদ্ধতার স্বীকৃতি পাওয়ার পর তাসিকন ও আরাফাতের চ্যালেঞ্জ সেটিই। আগের কার্যকারিতা যেন না কমে!
- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2016/09/24/408555#sthash.ppjmZVES.dpuf

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চার দূষণে ধুঁকবে সুন্দরবন

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে বায়ু, পানিসহ চারটি সুনির্দিষ্ট দূষণ ঘটবে। এতে মারাত্মক হুমকিতে পড়বে সুন্দরবন। এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে অবিলম্বে এ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধের সুপারিশ করেছে ইউনেসকো। পাশাপাশি সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না—এমন কোনো জায়গায় অবিলম্বে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। ইউনেসকোর সুপারিশের সঙ্গে সংগতি রেখে সরকার যথাযথ উদ্যোগ না নিলে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার কথা বিবেচনা করবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া ৩০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে ইউনেসকো। প্রতিবেদনের একটি কপি কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবেদনের বিষয়ে মতামত জানাতে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি।

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুনির্দিষ্টভাবে চারটি দূষণ ঘটবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলে ভয়াবহ মাত্রায় বায়ু ও পানিদূষণ হবে; যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বনের ওপর। নৌ চলাচল বৃদ্ধির কারণেও নানা দূষণ ঘটবে। নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে গিয়ে নদী খননের জন্য তোলা মাটির স্তূপও বনের ক্ষতি করবে। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের হিড়িক পড়ে যাবে। ফলে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রতিবেশের হুমকির মুখে পড়বে। আর এসব ঠেকানো না গেলে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে। প্রতিবেদনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) বা পরিবেশের চূড়ান্ত ছাড়পত্রকেও অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব বিবেচনায় সরকারকে অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার তাগিদ দিয়েছে ইউনেসকো। এমনকি নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য পশুর নদে যে খননকাজ শুরু হয়েছে, তা-ও বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। তারা বলেছে, সুপারিশ অনুযায়ী কাজ না করলে ২০১৭ সালে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের ৪১তম অধিবেশনে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হবে।

ইউনেসকোর সুপারিশ অনুযায়ী সরকার কি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা কোনো কাজ বন্ধ করছি না। তবে ইউনেসকোর উদ্বেগ দূর করার ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের মতামত জানাব।’

এর আগেও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেসকো। সর্বশেষ সংস্থাটির প্রতিনিধিরা গত ২২ মার্চ সাত দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার) প্রতিনিধি নওমি ডোয়াক,  মিজুকি মুরাই এবং ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের ফ্যানি ডৌভেরে। তাঁরা সুন্দরবন ঘুরে দেখেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফর শেষে ২৮ মার্চ বাংলাদেশ ছাড়েন তাঁরা। তারপর গত আগস্টে ইউনেসকোর পক্ষ থেকে ৩০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইউনেসকোর প্রতিবেদনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘বিশেষজ্ঞ দলের অভিমত ছাড়া ও পরিবেশের কথা বিবেচনায় না এনে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ প্রতিবেদনে সাউথ এশিয়ান হিউম্যান রাইটসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘ইআইএ প্রতিবেদন পাওয়ার দুই বছর আগেই রামপালে জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। ফলে পরিবেশের অনুমতি বা  ইআইএ গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে।’

প্রতিবেদনে ইআইএ সম্পর্কে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ৫৯টি শর্তে দেওয়া ইআইএ ছিল মূলত কেন্দ্র নির্মাণ পর্যায়ের, তাও তাতে পুরো চিত্র উঠে আসেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর এ কেন্দ্র থেকে নির্গত পরিবেশদূষণকারী বিষয়গুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে সে সম্পর্কে ইআইএ প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়নি। ইআইএ তৈরিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও মানা হয়নি। ইআইএ প্রতিবেদনটি অনুমানভিত্তিক, যা বাস্তবসম্মত নয়। তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকালীন এবং কেন্দ্র নির্মাণের পর তা থেকে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তাও নিরসন করতে পারেনি ইআইএ প্রতিবেদন।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড বা ভেল। তবে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কেন্দ্র নির্মাণ করবে তা চেষ্টা করেও জানতে পারেনি ইউনেসকোর প্রতিনিধিদল।

বায়ুদূষণ : বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পোড়ানোর কারণে তৈরি হবে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সসাইড, নাইট্রাস অক্সাইড ও পারদ (মার্কারি)। সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইডের মিশ্রণে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। বিশেষত মাটি ও পানিতে এসিড বা অম্লের পরিমাণ বেড়ে যাবে, যার ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের মৃত্যু হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রটি থেকে প্রতিবছর গড়ে ১০ লাখ টনের বেশি ছাই উৎপাদিত হবে। কয়লা পোড়া ছাই অতিমাত্রায় বিপজ্জনক, এতে রয়েছে আর্সেনিক, লিড (সিসা), পারদ, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, বেরিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সিলেনিয়াম ও রেডিয়াম। এসব দূষণকারী পদার্থ মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পারদ মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, এর কারণে বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পায়। এটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে ও হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতা সৃষ্টি করে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি দিয়ে বের হওয়া ধোঁয়া থেকে পারদ গিয়ে মিশবে পানিতে, যা মাছের দেহে ঢুকবে। ফলে এসব এলাকার মাছের ওপর নির্ভরশীল মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীও আক্রান্ত হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পারদের দূষণ নিয়ন্ত্রণে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না। বর্তমানে কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পারদের দূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা সম্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামপালে ২৭৫ মিটার বা ৯০০ ফুট উঁচু চিমনি ব্যবহার করা হবে। এ রকম উঁচু চিমনি কেন্দ্রের আশপাশের দূষণ রোধ করবে ঠিকই, তবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে না। বরং তা কেন্দ্র থেকে বহু দূরের স্থানে দূষণ ও এসিড বৃষ্টি ঘটাবে। কারণ উঁচু চিমনি বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরকে ছিদ্র করে দেবে এবং দূষিত বায়ু বহু দূরে গিয়ে তা ক্রমশ নিচে নেমে আসবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশ ঝুঁকিতে পড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের বাতাস উত্তর থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। ওই চিমনির ধোঁয়া জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশে গিয়ে পড়বে।

পানিদূষণ : প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পানি নেওয়া হবে পশুর নদ থেকে। পরে শীতলীকরণ ব্যবস্থার (কুলিং ওয়াটার) মাধ্যমে ওই পানি ফের পশুর নদে ফেলা হবে। প্রতিবেদনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত পানি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটা সারা পৃথিবীতেই প্রচলিত যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের পর পানি দূষিত হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরকারী দল জানতে পেরেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু পরিবেশ ও পানির ক্ষতি না করে সুরক্ষিতভাবে ছাই মজুদ রাখা দুরূহ কাজ। মজুদকৃত ছাই কোনোভাবেই পানিতে গিয়ে মিশবে না, সরকারের এ ধরনের আশ্বাস গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই সুরক্ষিতভাবে মজুদ রাখার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে। তাতে বলা হয়, নরম জমিতে কয়লার ছাই সংরক্ষণাগার করা যাবে না। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই মজুদ রাখার স্থান থেকে পানি ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত জলাভূমি অঞ্চলের মারাত্মক পানিদূষণ ঘটিয়েছে।

ইউনেসকো বলছে, রামপাল কেন্দ্রটি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যপ্রবণ এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২৫ বছরে এ অঞ্চলে ১৫টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত করেছে। জোয়ারের সময়ও এলাকাটি প্লাবিত হয়। কেন্দ্রের ছাই বন্যা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে নদীতে গিয়ে মিশতে পারে, যা সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্যের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করবে।

গড়ে উঠবে নতুন কল-কারখানা, বাড়বে দূষণ : রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খবর শোনার পর থেকেই বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প মালিকরা জমি কিনছেন। এমনকি অনেকে সুন্দরবনের ভেতরেও কারখানা করার জন্য জমি কিনেছে। শুধু মংলার জয়মণি এলাকায়ই ২০টিরও বেশি শিল্প-কারখানার সাইনবোর্ড দেখা যায়। সফরকারী দলটি এ বিষয়ে তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রামপাল কেন্দ্র হলে ওই অঞ্চলে নতুন করে আরো শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

নৌ চলাচলে দূষণ, খননের মাটিতে বিপন্ন হবে সুন্দরবন :  প্রতিবেদনে বলা হয়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করা হবে। কেন্দ্র নির্মাণের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কয়লা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশের পাশ দিয়ে নৌপথে রামপালে নেওয়া হবে। কেন্দ্রের ছাইও একই পথে নেওয়া হবে। এর ফলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

নৌ চলাচল ঠিক রাখতে পশুর নদে ৩৫ কিলোমিটার অংশে ড্রেজিং কতে হবে প্রতিবছর। খননের পর অন্তত তিন কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ঘনফুট মাটি বনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশে স্তূপ করে রাখা হবে, যা সুন্দরবনের ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে।

ইউনেসকোর প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ গতকাল শুক্রবার টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা প্রমাণিত হলো যে এত দিন আমরা যেসব তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি দিয়েছিলাম তার ন্যায্যতা রয়েছে। ইউনেসকোর প্রতিবেদন ও আমাদের বক্তব্যর ভিত্তি হলো বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত। সরকার যদি বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখে তাহলে এ কেন্দ্র বাতিল করবে।’ তিনি আরো বলেন, যদি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকা থেকে সুন্দরবন বাদ পড়ে তবে সারা পৃথিবীর দরবারে বাংলাদেশ কলঙ্কিত হবে, এটি দেশের জন্য খুবই খারাপ হবে। সরকারের উচিত, দ্রুত এ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ বন্ধ করা।

উল্লেখ্য, ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি গত বছর জুলাইয়ে তাদের ৩৯তম অধিবেশনেও রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, সে সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছিল ইউনেসকো। ইউনেসকোর আগে জাতিসংঘের আরেক সংস্থা রামসার সেক্রেটারিয়েটের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে যাচ্ছে।

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে বায়ু, পানিসহ চারটি সুনির্দিষ্ট দূষণ ঘটবে। এতে মারাত্মক হুমকিতে পড়বে সুন্দরবন। এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে অবিলম্বে এ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধের সুপারিশ করেছে ইউনেসকো। পাশাপাশি সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না—এমন কোনো জায়গায় অবিলম্বে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। ইউনেসকোর সুপারিশের সঙ্গে সংগতি রেখে সরকার যথাযথ উদ্যোগ না নিলে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার কথা বিবেচনা করবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া ৩০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে ইউনেসকো। প্রতিবেদনের একটি কপি কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে।
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবেদনের বিষয়ে মতামত জানাতে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি।
রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুনির্দিষ্টভাবে চারটি দূষণ ঘটবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলে ভয়াবহ মাত্রায় বায়ু ও পানিদূষণ হবে; যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বনের ওপর। নৌ চলাচল বৃদ্ধির কারণেও নানা দূষণ ঘটবে। নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে গিয়ে নদী খননের জন্য তোলা মাটির স্তূপও বনের ক্ষতি করবে। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের হিড়িক পড়ে যাবে। ফলে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রতিবেশের হুমকির মুখে পড়বে। আর এসব ঠেকানো না গেলে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে। প্রতিবেদনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) বা পরিবেশের চূড়ান্ত ছাড়পত্রকেও অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব বিবেচনায় সরকারকে অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার তাগিদ দিয়েছে ইউনেসকো। এমনকি নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য পশুর নদে যে খননকাজ শুরু হয়েছে, তা-ও বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। তারা বলেছে, সুপারিশ অনুযায়ী কাজ না করলে ২০১৭ সালে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের ৪১তম অধিবেশনে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হবে।
ইউনেসকোর সুপারিশ অনুযায়ী সরকার কি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা কোনো কাজ বন্ধ করছি না। তবে ইউনেসকোর উদ্বেগ দূর করার ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের মতামত জানাব।’
এর আগেও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেসকো। সর্বশেষ সংস্থাটির প্রতিনিধিরা গত ২২ মার্চ সাত দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার) প্রতিনিধি নওমি ডোয়াক,  মিজুকি মুরাই এবং ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের ফ্যানি ডৌভেরে। তাঁরা সুন্দরবন ঘুরে দেখেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফর শেষে ২৮ মার্চ বাংলাদেশ ছাড়েন তাঁরা। তারপর গত আগস্টে ইউনেসকোর পক্ষ থেকে ৩০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইউনেসকোর প্রতিবেদনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘বিশেষজ্ঞ দলের অভিমত ছাড়া ও পরিবেশের কথা বিবেচনায় না এনে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ প্রতিবেদনে সাউথ এশিয়ান হিউম্যান রাইটসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘ইআইএ প্রতিবেদন পাওয়ার দুই বছর আগেই রামপালে জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। ফলে পরিবেশের অনুমতি বা  ইআইএ গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে।’
প্রতিবেদনে ইআইএ সম্পর্কে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ৫৯টি শর্তে দেওয়া ইআইএ ছিল মূলত কেন্দ্র নির্মাণ পর্যায়ের, তাও তাতে পুরো চিত্র উঠে আসেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর এ কেন্দ্র থেকে নির্গত পরিবেশদূষণকারী বিষয়গুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে সে সম্পর্কে ইআইএ প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়নি। ইআইএ তৈরিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও মানা হয়নি। ইআইএ প্রতিবেদনটি অনুমানভিত্তিক, যা বাস্তবসম্মত নয়। তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকালীন এবং কেন্দ্র নির্মাণের পর তা থেকে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তাও নিরসন করতে পারেনি ইআইএ প্রতিবেদন।
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড বা ভেল। তবে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কেন্দ্র নির্মাণ করবে তা চেষ্টা করেও জানতে পারেনি ইউনেসকোর প্রতিনিধিদল।
বায়ুদূষণ : বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পোড়ানোর কারণে তৈরি হবে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সসাইড, নাইট্রাস অক্সাইড ও পারদ (মার্কারি)। সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইডের মিশ্রণে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। বিশেষত মাটি ও পানিতে এসিড বা অম্লের পরিমাণ বেড়ে যাবে, যার ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের মৃত্যু হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রটি থেকে প্রতিবছর গড়ে ১০ লাখ টনের বেশি ছাই উৎপাদিত হবে। কয়লা পোড়া ছাই অতিমাত্রায় বিপজ্জনক, এতে রয়েছে আর্সেনিক, লিড (সিসা), পারদ, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, বেরিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সিলেনিয়াম ও রেডিয়াম। এসব দূষণকারী পদার্থ মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পারদ মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, এর কারণে বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পায়। এটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে ও হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতা সৃষ্টি করে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি দিয়ে বের হওয়া ধোঁয়া থেকে পারদ গিয়ে মিশবে পানিতে, যা মাছের দেহে ঢুকবে। ফলে এসব এলাকার মাছের ওপর নির্ভরশীল মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীও আক্রান্ত হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পারদের দূষণ নিয়ন্ত্রণে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না। বর্তমানে কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পারদের দূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা সম্ভব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামপালে ২৭৫ মিটার বা ৯০০ ফুট উঁচু চিমনি ব্যবহার করা হবে। এ রকম উঁচু চিমনি কেন্দ্রের আশপাশের দূষণ রোধ করবে ঠিকই, তবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে না। বরং তা কেন্দ্র থেকে বহু দূরের স্থানে দূষণ ও এসিড বৃষ্টি ঘটাবে। কারণ উঁচু চিমনি বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরকে ছিদ্র করে দেবে এবং দূষিত বায়ু বহু দূরে গিয়ে তা ক্রমশ নিচে নেমে আসবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশ ঝুঁকিতে পড়বে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের বাতাস উত্তর থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। ওই চিমনির ধোঁয়া জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশে গিয়ে পড়বে।
পানিদূষণ : প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পানি নেওয়া হবে পশুর নদ থেকে। পরে শীতলীকরণ ব্যবস্থার (কুলিং ওয়াটার) মাধ্যমে ওই পানি ফের পশুর নদে ফেলা হবে। প্রতিবেদনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত পানি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটা সারা পৃথিবীতেই প্রচলিত যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের পর পানি দূষিত হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরকারী দল জানতে পেরেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু পরিবেশ ও পানির ক্ষতি না করে সুরক্ষিতভাবে ছাই মজুদ রাখা দুরূহ কাজ। মজুদকৃত ছাই কোনোভাবেই পানিতে গিয়ে মিশবে না, সরকারের এ ধরনের আশ্বাস গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই সুরক্ষিতভাবে মজুদ রাখার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে। তাতে বলা হয়, নরম জমিতে কয়লার ছাই সংরক্ষণাগার করা যাবে না। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই মজুদ রাখার স্থান থেকে পানি ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত জলাভূমি অঞ্চলের মারাত্মক পানিদূষণ ঘটিয়েছে।
ইউনেসকো বলছে, রামপাল কেন্দ্রটি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যপ্রবণ এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২৫ বছরে এ অঞ্চলে ১৫টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত করেছে। জোয়ারের সময়ও এলাকাটি প্লাবিত হয়। কেন্দ্রের ছাই বন্যা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে নদীতে গিয়ে মিশতে পারে, যা সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্যের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করবে।
গড়ে উঠবে নতুন কল-কারখানা, বাড়বে দূষণ : রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খবর শোনার পর থেকেই বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প মালিকরা জমি কিনছেন। এমনকি অনেকে সুন্দরবনের ভেতরেও কারখানা করার জন্য জমি কিনেছে। শুধু মংলার জয়মণি এলাকায়ই ২০টিরও বেশি শিল্প-কারখানার সাইনবোর্ড দেখা যায়। সফরকারী দলটি এ বিষয়ে তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রামপাল কেন্দ্র হলে ওই অঞ্চলে নতুন করে আরো শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
নৌ চলাচলে দূষণ, খননের মাটিতে বিপন্ন হবে সুন্দরবন :  প্রতিবেদনে বলা হয়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করা হবে। কেন্দ্র নির্মাণের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কয়লা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশের পাশ দিয়ে নৌপথে রামপালে নেওয়া হবে। কেন্দ্রের ছাইও একই পথে নেওয়া হবে। এর ফলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
নৌ চলাচল ঠিক রাখতে পশুর নদে ৩৫ কিলোমিটার অংশে ড্রেজিং কতে হবে প্রতিবছর। খননের পর অন্তত তিন কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ঘনফুট মাটি বনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশে স্তূপ করে রাখা হবে, যা সুন্দরবনের ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে।
ইউনেসকোর প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ গতকাল শুক্রবার টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা প্রমাণিত হলো যে এত দিন আমরা যেসব তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি দিয়েছিলাম তার ন্যায্যতা রয়েছে। ইউনেসকোর প্রতিবেদন ও আমাদের বক্তব্যর ভিত্তি হলো বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত। সরকার যদি বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখে তাহলে এ কেন্দ্র বাতিল করবে।’ তিনি আরো বলেন, যদি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকা থেকে সুন্দরবন বাদ পড়ে তবে সারা পৃথিবীর দরবারে বাংলাদেশ কলঙ্কিত হবে, এটি দেশের জন্য খুবই খারাপ হবে। সরকারের উচিত, দ্রুত এ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ বন্ধ করা।
উল্লেখ্য, ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি গত বছর জুলাইয়ে তাদের ৩৯তম অধিবেশনেও রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, সে সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছিল ইউনেসকো। ইউনেসকোর আগে জাতিসংঘের আরেক সংস্থা রামসার সেক্রেটারিয়েটের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে যাচ্ছে।
- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/first-page/2016/09/24/408553#sthash.zdIWWIUI.dpuf

Thursday, September 22, 2016

সাইবার অপরাধের মামলা হু হু করে বাড়ছে

সাইবার অপরাধ
* ৬৬% মামলা প্রমাণ করা যায়নি *১৩% মামলা তদন্ত পর্যায়েই মিথ্যা প্রমাণিত * ৯৪% মামলাই হচ্ছে বিতর্কিত ৫৭ ধারায়

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের মামলা হু হু করে বাড়ছে। অঙ্কের হিসাবে তিন বছরে মামলা বেড়েছে প্রায় ২০০ গুণ। আর এসব মামলার প্রায় সবই করা হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারায়। ধারাটি অজামিনযোগ্য।
ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র সাইবার ট্রাইব্যুনালের সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনটি মামলা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হয়। কিন্তু পরের বছর ট্রাইব্যুনালে আসে ৩২টি। ২০১৫ সালে বিচারের জন্য আসে ১৫২টি মামলা। আর চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারের জন্য মামলা এসেছে ১৫৬টি। এর বাইরে তদন্ত পর্যায়ে আছে ২৫০টি মামলা। অর্থাৎ বিচারাধীন ও তদন্তাধীন মিলে মোট মামলা ৫৯৩টি।
সাইবার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিন বছরে সাইবার অপরাধের মামলা বেড়েছে প্রায় ১৯৬ গুণ। আর মামলাগুলোর অধিকাংশই (৯৪ শতাংশ) করা হয়েছে ৫৭ ধারায়।
সাইবার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৬৬ শতাংশ মামলারই সব আসামি খালাস পেয়েছেন। তার মানে, মাত্র ৩৪ শতাংশ মামলা প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে তদন্ত পর্যায়েই মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে ১৩ শতাংশ মামলা। পুলিশ সেগুলোর বিষয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুরু থেকেই আইনটির ৫৭ ধারা নিয়ে উদ্বেগ করা হচ্ছিল। আইনটির অপব্যবহারের মাধ্যমে লোকজনকে হয়রানির আশঙ্কাও করা হচ্ছিল। সাইবার ট্রাইব্যুনালের তথ্য-উপাত্ত এখন সেই আশঙ্কাকে সত্য করে তুলেছে। পুরো আইনটিই এখন ৫৭ ধারাকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে।
আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকারকর্মীরা এ-ও বলেন, সরকারের আইনমন্ত্রী তাঁদের উদ্বেগের সঙ্গে সহমত পোষণ করে ৫৭ ধারা বাতিল বা সংশোধনের বিষয়ে বিভিন্ন সম​েয় আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই আশ্বাস আর পূরণ করা হয়নি।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হয়, তা হবে একটি অপরাধ।’
আইনজীবী শাহদীন মালিক মনে করেন, আইনের এই ধারা এত ঢালাও যে, যেকোনো মন্তব্যের জন্যই যে কেউ হয়রানির শিকার হতে পারেন। তিনি বলেন, একদিকে মামলা বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে আসামিরা অব্যাহতি পাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি ৫৭ ধারা বাতিলের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।
আইন অনুযায়ী, ৫৭ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হলে ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবেন ট্রাইব্যুনাল।
জানতে চাইলে সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, সাইবার অপরাধ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে ৫৭ ধারাকে যেন হয়রানির জন্য ব্যবহার না করা হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখা উচিত।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকে নারীদের নিয়ে আপত্তিকর ছবি ও অশ্লীল ভিডিও দেওয়ার অপরাধে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে ৫৭ ধারায়। ধর্ম অবমাননা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য প্রচারের অভিযোগেও মামলা হচ্ছে এই ধারায়। এ ছাড়া অনলাইনে মানহানিকর সংবাদ প্রচারের অভিযোগে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ধরনের কয়েকটি মামলার ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে। হ্যাকিং ও অনলাইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগেও এই আইনের ৫৫ ও ৫৬ ধারায় মামলা হয়েছে।
সাইবার ট্রাইব্যুনালের মামলা পর্যালোচনায় দেখা যায়, তদন্তে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে গত তিন বছরে ৪৬টি মামলায় পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এর মধ্যে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে করা ১০টি মামলার ৪টি রয়েছে।
ই-মেইলে মানহানিকর তথ্য পাঠানোর অভিযোগ এনে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক পূর্বাঞ্চল-এর সম্পাদক লিয়াকত আলী চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেন গত বছরের ১৩ জানুয়ারি। অভিযোগে বলা হয়, তাঁর সামাজিক মানমর্যাদা নষ্ট করতে আসামিরা কুরুচিপূর্ণ খবর তাঁদের ই-মেইল আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠায়। পুলিশ এই অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
২০০৬ সালে প্রণীত এই আইনের ৫৭ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট ৫৭ ধারা কেন সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে ৫৭ ধারায় জ্যামিতিক হারে মামলা বাড়ছে। বহু মানুষ হয়রানির শিকার হয়ে জেল খাটছে। বেশির ভাগ মামলা মানহানির অভিযোগে করা হচ্ছে। ৫৭ ধারায় যে মিথ্যা মামলা হচ্ছে, তার প্রমাণ পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এই ধারার অপপ্রয়োগ হচ্ছে।
আবার এই আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মামলার রায়ের খসড়া ফাঁসের দায়ে পাঁচজনের কারাদণ্ড দেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের মধ্যে সাকা চৌধুরীর আইনজীবী ফখরুল ইসলামের ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানা করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
গত ২৪ জুলাই রংপুরের এক বিচারককে মোবাইলে আপত্তিকর এসএমএস পাঠানোর দায়ে রেজওয়ানুল হক রিপন নামে এক আসামিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন সাইবার ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ১২ আগস্ট ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করে হুমকি দেওয়ায় এবং রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক রুহুল আমীন খন্দকারকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার অারেকটি আদালত।
তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে জানতে চাইলে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ প্রথম আলোকে বলেন, সাইবার অপরাধ বাড়ায় মামলা বাড়ছে। তবে কোথাও শতভাগ মামলা প্রমাণিত হওয়ার নজির নেই। আর ৫৭ ধারা থাকবে কি থাকবে না, তা জানা যাবে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করার পর। প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৬ আইন যাচাই-বাছাইয়ের (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে আছে।

আফগানদের চাপে রেখেছেন বিসিবি বোলাররা

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফতুল্লায় একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে বিসিবি একাদশ। আর স্বাগতিক বোলারদের চমৎকার বোলিংয়ে শুরুতেই চাপের মুখে পড়েছে আফগানরা। তাদের রানের গতিও বোলারদের নিয়ন্ত্রণে। এই রিপোর্ট লেখার সময় প্রাথমিক ধস সামলানোর চেষ্টা করছে আফগানরা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২৫ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৩ রান।

খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইমরুল কায়েস। ৩০ রান পর্যন্ত কোনো উইকেট হারায়নি আফগানরা। কিন্তু এরপর বাংলাদেশের ডান হাতি তিন পেসার তিন উইকেট তুলে নেন ১৭ রানের মধ্যে। অষ্টম ওভারে আবু হায়দার তুলে নেন নওরোজ মঙ্গলকে (১০)। উইকেটের পেছনে ক্যাচ নিয়েছেন লিটন দাস। আফগানরা পরের ওভারেই হারায় বিপজ্জনক মোহাম্মদ শাহজাদকে (১৭)। তাকে বোল্ড করে দেন আলাউদ্দিন বাবু। কিছুক্ষণের বিরতির পর বদলী বোলার শুভাশিস রায় শিকার করেন রহমত শাহকে (৮)। অধিনায়ক আসগার স্তানিকজাই (২১*) ও হাশমাতুল্লা শহিদি (১৮*) এরপর হাল ধরেন।

বিসিবির এই দলে আফগানিস্তানদের বিপক্ষে খেলার জন্য ঘোষিত বাংলাদেশের ১৩ সদস্যের দলের তিনজন আছেন। ইমরুলের সাথে আছেন সাব্বির রহমান ও প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে জায়গা পাওয়া তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ২৫ ও ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-আফগানিস্তান প্রথম দুই ওয়ানডে। সিরিজের শেষ ম্যাচ ১ অক্টোবর। তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।

বিসিবির সঙ্গে ওয়ালটনের ৩ বছরের চুক্তি


জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) টাইটেল স্পন্সর হতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) সঙ্গে তিন বছরের চুক্তিতে আবদ্ধ হলো দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা সংস্থা ওয়ালটন। চুক্তি মোতাবেক প্রথম বছর ৫০ লাখ টাকা ও অংশগ্রহণকারী ৮টি দলের জার্সির স্পন্সর থাকবে প্রতিষ্ঠানটি। দ্বিতীয় বছর ৬০ লাখ টাকা ও জার্সি এবং তৃতীয় বছর ৭০ লাখ টাকা ও জার্সি সরবরাহের চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

অতীতে এনসিএলের টাইটেল স্পন্সরশিপের চুক্তি টুর্নামেন্ট শুরুর আগ মুহুর্তে হতো। এর ফলে এনসিএল নিয়ে যথাযথ পরিকল্পনা করতে সমস্যায় পড়তে হতো বিসিবিকে। দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির ফলে আগামী দুই বছর বিভিন্ন বিরম্বনা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ লংগার ভার্সন ফরম্যাটের এই আসরটি।

আজ দুপুরে বিসিবির সম্মেলন কক্ষে এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সাইফুল আলম স্বপন, ভাইস-চেয়ারম্যান আকরাম খান, ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক জাহিদ হাসানসহ আরও অনেকে।

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসএিল) ১৮তম আসর। এবারের মৌসুমরে খেলা গড়াবে ঢাকার বাইরে চারটি ভেন্যুতে। রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা ও সিলেট এই চার ভেন্যুতে চারদিনের ম্যাচে লড়বে অংশগ্রহণকারী আটটি দল। জাতীয় লিগের প্রথম স্তরে থাকা দলগুলোর ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি চার হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। গেল বছর অর্থাৎ ১৭তম আসরের প্রথম স্তরে থাকা ক্রিকেটাররা ম্যাচ ফি বাবদ পেয়েছেন ২১ হাজার টাকা। এবার পাবেন ২৫ হাজার টাকা। প্রথম স্তরের দলগুলো হচ্ছে- বরিশাল বিভাগ, ঢাকা মেট্রো, খুলনা বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ। দ্বিতীয় স্তরের দল-রাজশাহী বিভাগ, রংপুর বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগ।

বরিশালে লঞ্চডুবি : আরও ২ নারী ও শিশুর লাশ উদ্ধার

বরিশালের বানাড়ীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চডুবির ঘটনায় আরও দুই নারী ও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে নলশ্রী, জম্বাদ ও তালাপ্রসাদ এলাকা থেকে ভেসে ওঠা লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের লাশ উদ্ধার হল। লঞ্চডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন।
উদ্ধার হওয়া লাশগুলো হল- মনোয়ারা বেগম (৪৫), আল্পনা রাণী (২৫) ও দিদার (৮)।
বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান জানান, স্বজনরা লাশগুলো শনাক্ত করেছেন। এখন তাদের কাছে সেগুলো বুঝিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এরআগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়। ওই সময় চার শিশুর লাশ উদ্ধার করা করে ডুবুরিরা।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের দাসেরহাট মজিদবাড়ী লঞ্চঘাট এলাকায় লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে কর্মরত বিআইডব্লিউটিএ এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী নিখোঁজ রয়েছে লঞ্চের আরও অন্তত চারজন যাত্রী।

সন্তানের বিলাসী সাধে তুচ্ছ বাবার প্রাণ !

কিশোর ছেলের দেওয়া আগুনে দগ্ধ বাবা এ টি এম রফিকুল হুদা (৪৮) অবশেষে মারা গেলেন। ফরিদপুরের ব্যবসায়ী বাবার কাছে স্কুল পেরোনো সন্তান ফারদিন হুদা মুগ্ধের আবদার ছিল নতুন মডেলের মোটরবাইক। সন্তানের সাধ, আর বাবার সাধ্যে খুব বেশি ফারাক ছিল না। কারণ এক বছর আগেই ছেলেকে কিনে দেওয়া হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা দামের মোটরবাইক। কিন্তু এবারের আবদারে সায় না দিতেই ক্ষুব্ধ সন্তান পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বাবার শোবার ঘরে। দগ্ধ রফিকুল ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল বুধবার মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। গতকাল বুধবার বিকেলে ছেলে ফারদিন হুদা মুগ্ধকে আসামি করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। অবক্ষয়ের মর্মান্তিক এ উদাহরণে বিচলিত ও হতবাক সবাই।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি নাজিমউদ্দিন আহমেদ জানান, নিহত রফিকুলের ভগ্নিপতি মো. আকরাম উদ্দিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে আসামি করা হয়েছে ফারদিন মুগ্ধকে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

স্বজনরা জানায়, ফরিদপুরের ব্যবসায়ী এ টি এম রফিকুল হুদার কাছে ছেলে সম্প্রতি আবদার করেছিল লেটেস্ট মডেলের ইয়ামাহা মোটরবাইক কিনে দিতে। একই কম্পানির দামি আরেকটি মোটরবাইক কিছুদিন আগে কিনে দেওয়ায় বাবা এ আবদারে রাজি হননি। এক বছরের পুরনো বাইক নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল মুগ্ধ। এরই জেরে ঈদের দুই দিন পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মুগ্ধ বাবার শোবার ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় রফিকুল দোতলা থেকে নিচে নেমে আসেন। স্বামীর শরীরের আগুন নেভাতে গিয়ে সামান্য দগ্ধ হন গৃহকর্ত্রী সিলভিয়া হুদা। প্রতিবেশী ও স্বজনরা তাঁদের দুজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় রফিকুলকে পরদিন স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকালে রফিকুলের মৃত্যু হয়।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন পার্থ শঙ্কর পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে এ টি এম রফিকুল ইসলাম হুদাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তাঁর শ্বাসনালিসহ শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিহত রফিকুলের বড় ভাই এ টি এম সিরাজুল হুদা, ভগ্নিপতি গোলাম মোস্তফা ও ভাগ্নে ইফতেখার আলম সেতু হাসপাতালে ছিলেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁরা লাশ গ্রহণ করে ফরিদপুরের বাড়িতে দাফনের জন্য নিয়ে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রফিকুলের বাবার নাম আবদুর রাজ্জাক। তাঁদের বাড়ি ফরিদপুর কমলাপুরের পুটিবাড়ী। রফিকুলের এক ভাই এ টি এম শামসুল হুদা সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার। রফিকুলের একমাত্র ছেলে মুগ্ধ এ বছর ফরিদপুর জেলা স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুর্গারানী সিকদার বলেন, মুগ্ধ অনেকটা অন্তর্মুখী স্বভাবের। সহপাঠীদের সঙ্গে তেমন একটা মিশত না। এমনকি শিক্ষকরাও তাকে চিনতেন কম। মধ্যমমানের ছাত্র ছিল সে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে এ গ্রেডে পাস করে।

রফিকুলের এ মর্মান্তিক মৃত্যু পরিবারের সদস্যদের শোকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পারিবারিক অবক্ষয়ের এ চিত্রে স্তম্ভিত ফরিদপুরবাসীসহ সবাই।

ফরিদপুর জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শিপ্রা রায় বলেন, এমন ঘটনা ঘটার পেছনে বড় কারণ হলো—পরিবারের সঠিক শিক্ষার অভাব। সন্তানকে বোঝানোর দায়িত্ব মা-বাবার। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সামর্থ্য থাকলেও সন্তানকে অনেক কিছু না দেওয়া উত্তম। সন্তানের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ভেবে দাবি মেটানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তাতে সামগ্রিকভাবে সমাজেরও দায় রয়েছে।

এদিকে ঘটনার আগে ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে মুগ্ধ ফেসবুক স্টেটাসে লেখে—‘পৃথিবীতে নিজে ভালো থাকতে হলে স্বার্থপর হতে হবে। আর অন্যকে ভালো রাখতে গেলে নিঃস্বার্থ হতে হবে এটাই সত্য।’ বাবা দগ্ধ হওয়ার পর মুগ্ধের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে স্বজনরা তেমন ধারণা দিতে পারেনি। সে পলাতক রয়েছে। তবে মৃত্যুর আগে রফিকুল স্বজনদের বলেছেন, ‘অবুঝ ছেলে এ কাজ করেছে, ওকে আমি মাফ করে দিয়েছি।’

কবরে নামানোর সময় কেঁদে উঠল নবজাতক

‘তার জন্য খবর খোঁড়া হয়েছিল। রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত হয় ভোরেই নবজাতকের দাফন সম্পন্ন হবে। খোঁড়া কবরের পাশেই কার্টনভতি ‘লাশ’ পড়েছিল রাতভর। ভোরে দাফনের সময় কার্টন খোলা মাত্রই কেঁদে ওঠে শিশুটি। সেই নবজাতক এখন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্চাকেন্দ্রে ভর্তি আছে। মনকে নাড়া দেওয়া এমনই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুরে। শিশুর স্বজনরা নবজাতককে মৃত ঘোষণাকারী ডাক্তারের বিচার চেয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শহরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে গত বুধবার রাতে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে নবজাতকের স্বজনরা  বলেছেন, ‘জন্ম নেওয়ার পর মায়ের দুধ পর্যন্ত পায়নি শিশুটি। ভূমিষ্ট হওয়ার পরই চিকিৎসক কন্যা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। আমরা ডাক্তারের কথায় বিশ্বাস করে ওই রাতেই নবজাতককে কবর দিতে একটি কার্টনে ভরে কবরস্থানে নিয়ে যাই। জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক সদস্য নাজমুল হুদা মিঠু ও অ্যাডভোকেট নাজনীন আক্তার পপি দম্পতি জানান ঘটনার পর আমরা মুষরে পড়ি। স্বজনরা নবজাতককে কবরস্থানে নিয়ে যায়। এরপর যা ঘটল তা সভ্য সমাজে বিরল। আমরা ঘটনার তদন্ত ও দোষিদের শাস্তি চাই। যাতে করে এমন নজির আর সৃষ্টি না হয়।’

হাসপাতাল ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রসব বেদনায় কাতর হয়ে অ্যাডভোকেট নাজনীন আক্তার পপিকে তাঁর শ্বশুর গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় ওই হাসপাতালের চিকিৎসক রিজিয়া আলম প্রসূতিকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে পরামর্শ দেন। আবুল কালাম মিয়া বলেন, ‘রোগীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় আমরা বারবার চিকিৎসককে অনুরোধ করি। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রিজিয়া আলম বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং বারবার অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেন। এর মধ্যে পপির অবস্থা দেখে তাঁকে লেবার রুমে নিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই একটি কন্যসন্তান প্রসব হয়। খবর পেয়ে ডা. রিজিয়া আলমও সেখানে যান এবং পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন।’

আবুল কালাম বলেন, ‘ডা. রিজিয়া আলম শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন প্রসবের পরপরই। তখন রাত সাড়ে ১২টা। আমরা রাত ৩টার দিকে নবজাতককে শহরের অলীপুর কবরস্থানে দাফন করতে নিয়ে যাই। কবরস্থানের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা হাজি আব্দুর রব বলেন, এখন লোকজন নেই, ভোরে আসেন। তখন কবর দেওয়ার ব্যবস্থা হবে। আমরা কার্টনে ভরা নবজাতককে কবরস্থানে রেখেই বাড়ি চলে আসি। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে কবর দিতে গেলে মাওলানা কার্টনে শিশুটির মাথা কোন দিকে তা নিশ্চিত হতে তা খুললে শিশুটি নড়াচড়া করে কেঁদে ওঠে। এ অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে আমরা নবজাতককে নিয়ে ওই হাসপাতালে ছুটে যাই। নবজাতককে ইনকিউবিটরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এখন।’ তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, নইলে ভবিষ্যতে আরো এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. রিজিয়া আলম বলেন, ‘হাসপাতালের আসন সংকট থাকায় রোগী প্রথমে ভর্তি করতে চাইনি। পরে জানতে পারি প্রসূতি স্বাভাবিকভাবেই একটি কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন। তখন আমি শিশুটির পালস ও রেসপন্স (কান্নাকাটি না করা) না পাওয়ায় তাকে মৃত মনে করে স্বজনদের নিয়ে যেতে বলি। তবে শিশুটি বেঁচে আছে জেনে ভালো লাগছে।’ তবে তিনি কোনো অবহেলা হয়নি দাবি করে বলেন, ছয় মাসেরও কম সময় মায়ের পেটে ছিল নবজাতক। অসময়ে জন্ম নেওয়ায় দুর্বল ছিল সে। হৃত্স্পন্দন পাওয়া যায়নি। তাই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

ওই হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সদস্য শওকত আলী জাহিদ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বলে মন্তব্য করেন। হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সালাউদ্দিন ফরিদ বলেন, ‘এ ঘটনা আমরা খতিয়ে দেখব। যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় বা কারো কোনো অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছে। তাদের তদন্ত শেষ হলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।’

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. অরুণ কান্তি বিশ্বাস বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। রোগী এলেই চিকিৎসকের দায়িত্ব তাকে সেবা দেওয়া। তিনি বলেন, কেন এমন হলো তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

জয়ের অর্জনে গর্বিত প্রধানমন্ত্রী

'আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে গর্বিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তার মা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জয়ের সহযোগিতা ও উদ্ভাবনমূলক চিন্তা-ভাবনার ফলেই বাংলাদেশ দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

জাতিসংঘ ৭১তম সাধারণ অধিবেনে অংশগ্রহণ বিষয়ে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি এই কথা জানান। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী সেখানে বলেন, "আপনারা জানেন, আমার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় আমার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তার সহযোগিতায় ও উদ্ভাবনমূলক চিন্তা-ভাবনায় আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।"

তিনি বলেন, 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' বিনির্মাণে ও 'সুশাসনে তথ্যপ্রযুক্তি' খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্লান ট্রিফিনিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে তাকে সম্মানজনক 'আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট' পুরস্কারে ভূষিত করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। মা হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি আশা করি জয় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।"

উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্ল্যান ট্রিফিনিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট প্রদেশের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে 'আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৬' প্রদান করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বৃহস্পতিবারের প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম প্রেস কনফারেন্স পরিচালনা করেন। নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী অন্য মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : প্রেস রিলিজ

'আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' অর্জন করায় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে গর্বিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তার মা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জয়ের সহযোগিতা ও উদ্ভাবনমূলক চিন্তা-ভাবনার ফলেই বাংলাদেশ দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
জাতিসংঘ ৭১তম সাধারণ অধিবেনে অংশগ্রহণ বিষয়ে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি এই কথা জানান। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী সেখানে বলেন, "আপনারা জানেন, আমার ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় আমার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তার সহযোগিতায় ও উদ্ভাবনমূলক চিন্তা-ভাবনায় আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।"
তিনি বলেন, 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' বিনির্মাণে ও 'সুশাসনে তথ্যপ্রযুক্তি' খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্লান ট্রিফিনিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে তাকে সম্মানজনক 'আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট' পুরস্কারে ভূষিত করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে আমিও উপস্থিত ছিলাম। মা হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক গর্বের। আমি আশা করি জয় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করবে।"
উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্ল্যান ট্রিফিনিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট প্রদেশের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সজীব ওয়াজেদ জয়কে 'আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০১৬' প্রদান করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বৃহস্পতিবারের প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম প্রেস কনফারেন্স পরিচালনা করেন। নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী অন্য মন্ত্রী, এমপি, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র : প্রেস রিলিজ
- See more at: http://www.kalerkantho.com/online/national/2016/09/23/408390#sthash.20ddz2N2.dpuf

Visite Here