Monday, July 10, 2017

২০ টাকায় মশা থেকে মুক্ত থাকুন এক বছর !

মশার যন্ত্রণায় কমবেশি সবাই ভুগে। বিশেষ করে অনুন্নত বা সল্প উন্নত দেশগুলো এই সমস্যা বেশি। মশা থেকে মুক্ত থাকার জন্য আপনার মনে হয়তোবা কয়েলের ছবি ভাসছে। কিন্তু একবারও ভেবে দেখেছেন, এক বছরে আপনি কয়েলের পিছনে কত টাকা খরচ করছেন? আর সব থেকে বড় কথা হলো, কয়েল মানব শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর সেটা কি আপনি জানেন? আপনি হয়তোবা বলতে পারেন আমি কয়েল ব্যবহার করিনা। আমার আছে এ্যারোসল! সেটা তো মানব শরীরের জন্য আরো ভয়াবহ ক্ষতিকর । 

 অথবা আপনি বলতে পারেন আমার কাছে ব্যাট আছে। কিন্তু মশার সাথে কতদিন ব্যাডমিন্টন খেলবেন? ১০টা মারবেন ১০০ মশা সামনে এসে হাজির হবে। আপনি মরে যাবেন কিন্তু আপনার মশা মারা আর শেষ হবে না! এবার জেনে নিন কিভাবে মাত্র ২০ টাকা খরচ করে পুরো এক বছর মশার উপদ্রব থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন। তবে তার আগে আপনাকে কয়েল এবং এ্যারোসলের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে হবে। তা নাহলে আপনার মাথায় ওগুলোই ঘুরপাক খাবে। 

কয়েলের মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর দিক: 

 (১) আপনি যদি একটি মশার কয়েল টানা ৮ ঘন্টা জ্বালিয়ে রাখেন তাহলে ১৩৭টি সিগারেটের পরিমাণ বিষাক্ত ধোঁয়া আপনি গিলছেন। 
 (২) কয়েলে যে গুঁড়া দেখেন সেটা এতটাই সূক্ষ্ম যে তা সহজেই আমাদের শ্বাসনালীর এবং ফুসফুসের পথে গিয়ে জমা হয়ে বিষাক্ততা তৈরি করে। 
(৩) কয়েলের ধোঁয়া চোখের ভীষণ ক্ষতি করে, দীর্ঘদিন ব্যবহারে চোখের ভয়াবহ ক্ষতিসাধন হতে পারে। 
 (৪) কয়েল মশাকে তাৎক্ষণিক মারে; কিন্তু মানবদেহে স্লো পয়জনিং সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে মানুষ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়। 

এ্যারোসলে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর দিক: 
 (১) এ্যারোসল হার্টের জন্য খুবই ক্ষতিকর। মানব দেহের হার্ট সরাসরি এ্যারোসলের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 
 (২) এ্যারোসলের ক্যামিকেল চোখের ক্ষতি করে, দীর্ঘদিনের ব্যবহারে চোখের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

এবার জেনে নিন কীভাবে বানাবেন মশার ফাঁদ 
 প্রয়োজনীয় উপকরণ: 
 (১) দুই লিটারের একটি প্লাস্টিকের বোতল (সেভেনআপ/কোক/ফান্টা/আরসি কোলা যে কোন পিইটি বোতল)। 
 (২) এক গ্লাসের তিন ভাগের দুই ভাগ (২০০ এমএল) ফুটানো ইষৎ গরম পানি। 
 (৩) এক কাপের তিন ভাগের ২ ভাগ ব্রাউন সুগার (খোলা চিনি হলে ভালো তবে পরিশোধিত চিনি হলেও চলবে)। 
 (৪) এক চামচ ইষ্ট (যে কোন সুপার শপ বা বড় মুদি দোকানে পাবেন)। 

 প্রস্তুত প্রণালী: মশা থেকে মুক্ত থাকতে হলে আপনাকে প্রস্তুত প্রাণালী ধাপে ধাপে অনুসরণ করতে হবে। প্রথমে প্লাষ্টিকের বোতলটি ওপর থেকে ৩/৪ ইঞ্চি রেখে একটি চাকু দিয়ে কেটে ফেলুন। তারপর নিচের বড় (বোতল) অংশটিতে ব্রাউন সুগার বা খোলা চিনি বা পরিশোধিত চিনি ঢেলে দিন। নাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তারপর এক কাপ ফুটানো পানি ঢালুন। তারপর এক চামচের তিন ভাগের দুই ভাগ ইষ্ট ছেড়ে দিন। এবার বোতলের ওপরের অংশটিকে চিৎ করে বড় বোতলের ভেতর বসিয়ে দিন। খেয়াল রাখবেন বোতলের ওপরের অংশের মুখের ছিপিটি যেন অবশ্যই খোলা থাকে। কারণ ওখান থেকেই মশা ভেতরে ঢুকবে। এরপর একটি টেপ দিয়ে বড় এবং ছোট অংশটির জোরা শক্ত করে লাগিয়ে দিন। ব্যস
 হয়ে গেলো মশা মারার হোমমেড ফাঁদ। এবার ফাঁদটিকে ঘরের যেকোনো কোনায় রেখে দিন। চলতে পারবেন পুরো এক বছর। 

 সর্তকতা: বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখুন। যাতে তারা ভুলে খেয়ে না ফেলে।

Sunday, July 9, 2017

চিকুনগুনিয়া বিস্তারে অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা







চিকুনগুনিয়া রোগের ব্যাপক বিস্তারের ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পারিবারিক পর্যায়ের অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন। পাশাপাশি মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে নগরবাসী তেমন সচেতন নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা (আইইডিসিআর) কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ডা. মীরজাদী সাবরিনা ফ্লোরা আজ সাংবাদিকদের বলেন, চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে ঢাকাবাসীর উচিৎ তাদের বাড়িঘর পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি নগরীর বাসিন্দারা এডিস মশা ধ্বংসে অবহেলা করছেন... চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত কর্মসূচিতে তাদের সহায়তা করা উচিৎ।
প্রফেসর ফ্লোরা বলেন, আমরা ধারণা করছি, ধীরে ধীরে এই রোগের প্রকোপ কমে যাবে। এ জন্য পরবর্তী কয়েকটি দিন আমাদের দেখতে হবে, তাহলে এই রোগের প্রকৃত অবস্থা বুঝা যাবে।
তিনি জানান, আইইডিসিআরে গত ৩ জুলাই থেকে চিকুনগুনিয়া রোগের জন্য একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে এবং যে কেউ এই রোগের ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
প্রফেসর ফ্লোরা বলেন, রাজধানীতে মশাবাহিত চিকুনগুনিয়া রোগে ৫৬৬ জনের মতো আক্রান্ত হয়েছেন বলে সনাক্ত করা হয়েছে। এই রোগ সম্পর্কে জানার জন্য প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি আইইডিসিআর-এ আসছেন।
আইইডিসিআর-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এসএম আলমগীর বাসসকে বলেন, এডিস এজিপ্টি ও এডিস আলবোপিকটাস নামক দুই প্রজাতির মশা চিকুনগুনিয়া রোগের কারণ। এই রোগের বিশেষ কোন চিকিৎসা না থাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি এই রোগ প্রতিরোধে জনগণকে জানতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণ পানীয় পান করতে হবে এবং বিশ্রামে থাকতে হবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোগ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের পরিচালক ও স্বাস্থ্যসেবা অধিদফতরের (ডিজিএইচএস) লাইন পরিচালক প্রফেসর ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, আমরা ঢাকা মহানগরীর ৪৭টি ওয়ার্ডের ৫০টি স্থানে চিকুনগুনিয়া রোগের ঝঁকিপূর্ণ স্থান নির্ধারণে একটি জরিপ পরিচালনা করেছি।
তিনি বলেন, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ ও গাইডলাইন নিয়ন্ত্রণে পাঁচ শয়ের মতো চিকিৎসক ও নার্সকে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভাগ, ঝেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মশার প্রজননকেন্দ্র বিনষ্টে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
প্রফেসর সানিয়া বলেন, আমরা গত ১৭ জুন ঢাকা মহানগরীর ৯২টি ওয়ার্ডের দুইশটিরও বেশি স্থানে চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারাভিযান চালিয়েছি। এতে বিভিন্ন সরকারি ও প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে, ডেন্টাল কলেজ ও নার্সিং ইন্সটিটিউটের প্রায় এক হাজারের মতো ছাত্রছাত্রী অংশ নেন।
চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাল রোগ, যা মশার মাধ্যমে মানবদেহে ছড়ায়।

Visite Here